বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম বলেছেন, “যে দল নিজের নেতাকর্মীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, তারা জনগণকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে?”
এই মন্তব্য তিনি করেন রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এক জনসভায়, যেখানে দলটির রংপুর অঞ্চলের সংসদীয় প্রার্থী ঘোষণাও করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন রংপুর মহানগর কমিটির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি আমিরুজ্জামান পিয়াল। বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম।
গত ১০ মাসে বিএনপির ১২৭ জন নেতাকর্মী নিহত — যার জন্য অভ্যন্তরীণ সহিংসতা দায়ী।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
৩৮% তরুণ ভোটার বিএনপি বা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানে না — ফলে পরিবর্তিত প্রজন্মের কাছে পুরাতন দলগুলোর আবেদন দুর্বল।
“আর এক ফোঁটা রক্ত নয়”— অবৈধ সরকার বা চাঁদাবাজদের পক্ষে রক্ত দেয়ার সংস্কৃতি বন্ধের ডাক।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিগত এক দশকে ভোটাধিকার, ইসলামি ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা-র পক্ষে কথা বলে এসেছে। জাতীয় রাজনীতিতে তারা নিজেদের "কোনো দলের তাবেদার নয়" এমন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৩৮% ভোটার তরুণ, যাদের বড় অংশ ২০০১ বা ২০০৮ সালের রাজনীতির স্মৃতি থেকে বঞ্চিত। ফলে ইসলামী আন্দোলনের মতো নতুন ধারার দলগুলো তরুণদের টার্গেট করছে।
ফজলুল করীমের বক্তব্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও অগঠিত সংগঠন কাঠামোর বিষয়টিকে রাজনৈতিক সমালোচনার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
“আর রক্ত নয়”— এই বার্তা জনগণের মধ্যে সহিংসতাবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতির দাবিকে তুলে ধরে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের প্রতি পরোক্ষ আঘাত — যেখানে ইসলামী আন্দোলন নিজেকে “তৃতীয় শক্তি” হিসেবে তুলে ধরছে।
তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ইসলামী আন্দোলন সরাসরি বার্তা দিচ্ছে — “ধানের শীষ কী, অনেকে জানে না” বলার মধ্য দিয়ে পুরনো প্রতীক-ভিত্তিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হচ্ছে।
রংপুর অঞ্চলে সরাসরি ৫টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা দলটির সাংগঠনিক প্রস্তুতির দৃষ্টান্ত।
তরুণ, নির্দলীয় ও নির্ভরযোগ্য ভোটারদের আকর্ষণ করার সুযোগ
“সহিংসতামুক্ত রাজনীতি” বার্তা মানুষকে ভাবাবে
আঞ্চলিকভাবে রংপুরে শক্ত ভিত তৈরি করার সম্ভাবনা
জাতীয় রাজনীতিতে মূলধারার অংশীদার হতে না পারলে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
চরমোনাই পীরের ভাবমূর্তি এককেন্দ্রিক — সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বের অভাব
প্রচলিত দুই দলের সংগঠন-সম্পদ ও প্রচারযন্ত্রের সাথে প্রতিযোগিতা কঠিন
রংপুর-১: এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু
রংপুর-২: মাওলানা আশরাফ আলী
রংপুর-৩: আমিরুজ্জামান পিয়াল
রংপুর-৪: জাহিদ হোসেন
রংপুর-৫: অধ্যক্ষ গোলজার হোসেন
ফজলুল করীমের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান — যেখানে সহিংসতা, ব্যক্তিপূজা ও ক্ষমতালিপ্সার বিপরীতে গড়ে ওঠে নৈতিকতা ও ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা।
রংপুর থেকে ঘোষিত এই বার্তা শুধু একটি অঞ্চলভিত্তিক প্রস্তুতি নয় — এটি জাতীয় রাজনীতির বিকল্প ধারার সূচনাও হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, তারা এই বার্তাকে কতটা কার্যকরভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।
1. ফজলুল করীম কাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন 'আর রক্ত নয়'?
অবৈধ সরকার, চাঁদাবাজ, সহিংসতা-ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে এই বার্তা দিয়েছেন।
2. ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী প্রস্তুতি কী পর্যায়ে?
রংপুর অঞ্চলে ৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং নির্বাচনী সমাবেশ চলছে।
3. তরুণ ভোটার ইস্যু কেন গুরুত্বপূর্ণ?
৩৮% ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবে, যাদের পুরোনো দলগুলোর প্রতি সংযুক্তি কম।
4. বিএনপি নিয়ে কী সমালোচনা করা হয়েছে?
ফজলুল করীম বলেন, গত ১০ মাসে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১২৭ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন — এটি দলের দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রমাণ।
5. ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য কী?
সহিংসতামুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং ইসলামি মূল্যবোধের উপর গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |